বাংলা ফন্ট

সরকারের তৎপরতায় ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় কি পাল্টে যাচ্ছে?

14-08-2017
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

   সরকারের তৎপরতায় ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় কি পাল্টে যাচ্ছে?
ঢাকা: সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়কে ঘিরে সরকারে অস্বস্তি ও বিরোধী শিবিরে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। সেইসঙ্গে শাসন ও বিচার বিভাগের দীর্ঘদিনের অপ্রকাশ্য টানাপোড়েন এখন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে।

রায়ের পর্যবেক্ষগুলোকে ঘিরেও সরকার ও বিরোধী পক্ষে চলছে তুমুল বাকযুদ্ধ। আদালতের রায়ে যেসব পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে তাতে সরকারে চরম অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। আর এতে সরকার যে কঠিন চাপের মুখে পড়েছে তা মন্ত্রী-এমপি ও নেতাদের বক্তব্য থেকেই দৃশ্যত হচ্ছে। সরকার পক্ষ এ রায়ের সমালোচনা করলেও বিরোধী পক্ষ এই রায়কে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যায়িত করে সরকারকে পদত্যাগেরও আহ্বান জানিয়েছে।

শুধু তাই নয়, রায়ের পর্যবেক্ষণে বর্তমান সংসদকে ‘অকার্যকর’ বলে মন্তব্য করায় সংসদ ভেঙে দেয়ার দাবি তুলে আদালতে রিটের চিন্তাভাবনাও করছে বিরোধীপক্ষ।

তবে সরকার পক্ষ বিরোধী পক্ষের পদত্যাগের দাবি নাকচ করে দিয়েছে। তবে ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে দেয়া পূর্ণাঙ্গ রায়ে সংক্ষুব্ধ সরকার। এমন কী সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকেও এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদের সভায় এক অনির্ধারিত আলোচনায় এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মন্ত্রীরা। একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রায়ের বিষয় জনগণকে জানানোর জন্য মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের নির্দেশ দেন।

এদিকে সরকারের মন্ত্রী-এমপি আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা প্রকাশ্যেই প্রধান বিচারপতিকে আক্রমণ করে কথা বলছেন। এরই মধ্যে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের জরুরি সভা করে এই রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে। আওয়ামী লীগের আইনজীবী পরিষদও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। সবমিলেই রায়কে রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

এদিকে রায়ের পর সরকারের ও দলের প্রতিক্রিয়া জানাতে শনিবার রাতে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার সঙ্গে সরাসরি দেখা করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

এ প্রসঙ্গে কাদের বলেন, ‘তার (প্রধান বিচারপতি) সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, দীর্ঘক্ষণ। আলোচনা শেষ হয়নি। আরো আলোচনা হবে। শেষ হওয়ার আগে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। সময় হলে আপনারা সব কিছু জানতে পারবেন। আমিও বলব।’

এদিকে রবিবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (১নং) দক্ষিণ হলে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস বলেছেন,‘একটি ইংরেজি পত্রিকার সম্পাদক রায়ের ড্রাফট লিখে দিয়েছেন।’

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে দেয়া রায়ে অপ্রাসঙ্গিক ও অসাংবিধানিক বক্তব্যে সংক্ষুদ্ধ হয়েছেন আইনজীবীরা। এ কারণে রায়ে দেয়া অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্যগুলো বাতিলের দাবি জানিয়ে এ প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সমাবেশে ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘আমরা জানি কারা এ ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত। জাতির কাছে একে-একে তাদের মুখোশ উন্মোচন করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা জানি এ রায়ের ড্রাফট কোথা থেকে এসেছে। একটি ইংরেজি পত্রিকার সম্পাদক এ ড্রাফট লিখে দিয়েছেন। আমরা এ কাজের নিন্দা জানাই।’

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার প্রতি ইঙ্গিত করে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর ইতিহাস বিকৃত করেছিল জিয়াউর রহমান। আজকে অনেকেই অনেক রকমভাবে আকারে ইঙ্গিতে ইতিহাস বিকৃতি করতে চায়। এরাও একই গ্রুপের লোক, তা বলতে আমার দ্বিধা নেই।’

‘সময়ে এদেরও বিচার হবে’-এমন মন্তব্য করে শেখ সেলিম বলেন, ‘ক্ষমতার কোনো চেয়ারে বসে যা খুশি তাই করবেন-তা করা যায় না। এ দেশের জনগণ সময় মত সঠিক উত্তর দেবে।’

তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু না থাকলে আমরা ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হতাম না। ৭০ সালের নির্বাচনে বিজয়ী না হলে, এ দেশ স্বাধীন হতো না। যদি কোনো পর্যবেক্ষণে বলা হয়, এক ব্যক্তির নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয় নাই, তখন দুঃখ প্রকাশ ছাড়া কিছুই বলার থাকে না।’

রায়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল বলেছেন, ‘আমরা জানতে পারছি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা স্বাধীনতার সময় শান্তি কমিটিতে ছিলেন। এ শান্তি কমিটির প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিলো হিন্দু নিধন।  একজন হিন্দু কিভাবে শান্তি কমিটিতে যোগ দেন? ফলে তিনি হিন্দু নন।’

তিনি আরো বলেন, ‘সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ষড়যন্ত্র করছেন, তিনি বিএনপি সুরে কথা বলছেন। আমরা তার অপসারণ চাই।’

মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এই রায় একটা ষড়যন্ত্রের অংশ। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার এবং আইনমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানোর নির্দেশনা দেন।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের পর্যবেক্ষণে প্রধান বিচারপতি বঙ্গবন্ধুর প্রতি কটাক্ষ করার ‘ধৃষ্টতা’ দেখিয়েছেন। এ রায়ে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ব্যাপকভাবে অসাংবিধানিক ও অনৈতিক কথাবার্তার অবতারণা করেছেন মন্তব্য করে তিনি বলেন, এমনকি রায়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়েও কটাক্ষ করতে দ্বিধা করেননি, আমরা ধিক্কার জানাই।

‘আপনি মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তির সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে যা বলছেন, তা ঠিক নয়। বাংলার মানুষ জানে, আপনি শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন।’

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, এ রায় আবেগ ও বিদ্বেষতাড়িত।

খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেছেন, প্রধান বিচারপতির অপসারণ দাবি। নইলে আগামী মাস থেকে তার অপসারণ দাবিতে টানা আন্দোলনের ঘোষণা। মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের সঙ্গে আঁতাত করে বেশি দিন এই মসনদে থাকতে পারবেন না।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেছেন, আদালত যতবার ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করবে, আমরা ততবার সংসদে বিল পাস করব। তা আমরা অনবরত করতে থাকব। দেখি জুডিশিয়ারি কত দূর যায়।জুডিসিয়াল কন্ডিশন আনটলারেবল। সংসদের উপর তারা পোদ্দারি করবে। এদেরকে আমরা চাকরি দেই।

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন ‘যারা বর্তমানে বিচারকের আসনে বসেছেন, তারা ইম-ম্যাচিউরড।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, ‘আদালতের হাত এত বড় লম্বা হয়নি যে সংসদ ছুঁতে পারে। সংসদ নিয়ে ধৃষ্টতা দেখানোর অধিকার কারও নেই।’

আইন কমিশনের চেয়ারম্যান এবিএম খায়রুল হক বলেছেন,‘ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে দেওয়া ওই রায় ছিল পূর্বধারণাপ্রসূত ও আগে থেকে চিন্তাভাবনার ফসল। সুপ্রিম কোর্টের এ ধরনের মন্তব্য মেনে নেওয়া যায় না।’

‘প্রধান বিচারপতিকে প্রধান শিক্ষক আর অন্য বিচারপতিদের ছাত্র।’

অবশ্য সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হককে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা চাইতে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। রবিবার রেজিস্ট্রি ডাকযোগে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী বিএম সুলতান মাহমুদ এই নোটিশ পাঠান।

আইনজীবী সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘গত ৯ আগস্ট সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়ে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান খায়রুল হক যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা আদালত অবমাননার শামিল।’

এদিকে রায় নিয়ে তুমুল বিতর্কের মধ্যে হঠাৎ প্রধান বিচারপতির বাসায় গিয়ে তার সঙ্গে ওবায়দুল কাদেরের দুই ঘন্টার বৈঠক করেছেন। আরো বৈঠকের ইঙ্গিত দিয়েছেন কাদের নিজেই। ফলে এ নিয়ে সবমহলে চলছে নানা শোরগোল। তাহলে কী ঘটতে যাচ্ছে? এমন প্রশ্ন অনেকের।

একাধিক বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যাচ্ছে, প্রধান বিচারপতির বাসায় অনুষ্ঠিত প্রায় দুই ঘণ্টার এই বৈঠকে ষোড়শ সংশোধনীকে অবৈধ করে আপিল বিভাগের রায় ও পর্যবেক্ষণ নিয়ে প্রধান বিচারপতির কাছে সরকার ও আওয়ামী লীগের অবস্থান তুলে ধরেন ওবায়দুল কাদের। ওই সাক্ষাতে ওবায়দুল কাদের প্রধান বিচারপতিকে জানিয়েছেন, ‘এ রায় নিয়ে রাজনৈতিক মহলে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে- যা অনভিপ্রেত। রায়কে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো পরিস্থিতি তৈরি হোক বা বিচার বিভাগের সঙ্গে নির্বাহী বিভাগের মুখোমুখি অবস্থান সরকার চায় না।

তাই রায়ে থাকা অপ্রাসঙ্গিক পর্যবেক্ষণ বাদ দিয়ে রাজনৈতিক মহলে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনা বিচার বিভাগের দায়িত্ব।’ প্রধান বিচারপতিকে এ দায়িত্ব নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নিরসন করতে অনুরোধ জানান ওবায়দুল কাদের। তবে প্রধান বিচারপতি তাত্ক্ষণিকভাবে তার কোনো অবস্থান ওবায়দুল কাদেরকে জানাননি। জানা গেছে, পরে গণভবনে গিয়ে সাক্ষাতের অগ্রগতির ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবহিত করেছেন ওবায়দুল কাদের।

অন্যদিকে আইনমন্ত্রী  আনিসুল হকও এমনটি ইঙ্গিত দিয়ে  বলেছেন, ‘জাজমেন্টের মধ্যে অপ্রাসঙ্গিকভাবে যদি আসল ইতিহাস যা নয় তা বলা হয় তাহলে এ বিকৃতি ধরিয়ে দেয়ার অধিকার আমার আছে। আমাদের স্বাধীনতা রাতারাতি আসেনি। রাজনৈতিক আন্দোলনের পর জনগণের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। সেক্ষেত্রে এই ইতিহাস যদি আমিও বিকৃত করি তাহলে আমিও অপরাধী।’

তিনি আরো বলেন, ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে দেয়া রায়ের পর্যবেক্ষণে আপত্তিকর, অপ্রীতিকর ও অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্যের মাধ্যমে ইতিহাস বিকৃত হয়েছে। সেখানে থাকা এক্সপাঞ্জ করার মতো বক্তব্যগুলো চিহ্নিত করা হচ্ছে। এক্সপাঞ্জ করার জন্য সুপ্রিম কোর্টের বিধান অনুযায়ী যদি রিভিউ করার প্রয়োজন হয়, তাহলে রিভিউ করা হবে।

অর্থাৎ সরকার চাচ্ছে যে কোনো উপায়ে এই রায়ের সংশোধন। রায়ে যেসব পর্যবেক্ষণ সরকারকে বিব্রত করছে তা বাদ দিতে। আর এমন গ্যারান্টি পেলেই সরকার রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করবে।

অবশ্য সরকারের তৎপরতায় এমন আশঙ্কা বিরোধী শিবিরেরও। সরকার প্রধান বিচারপতির ওপর চাপ প্রয়োগ করে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় পরিবর্তনের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তবে সরকার যে তৎপরতাই চালাক না কেন এভাবে এইসকল প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ যেসব  বক্তব্য দিয়েছেন তা সরাসরি বিচার বিভাগকে কঠিন এক চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন বলে মনে করছেন আইনবিশেষজ্ঞরা।

বিশিষ্ট আইনজীবী ড. তুহিন মালিকের মতে, এইসব হুমকি-ধমকী দিয়ে তারা সংবিধানে বর্ণিত বিচার বিভাগের প্রতি নাগরিকের আস্থা, বিশ্বাস বা প্রত্যয়কে পরাহত করেছেন। যা সংবিধানের ৭ক(২) অনুচ্ছেদ মোতাবেক রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধ। যা মৃত্যুদণ্ডের সর্বোচ্চ দণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ। সাংবিধানিক শপথকারী এইসকল ব্যক্তিবর্গ সংবিধান সংরক্ষণ ও সুরক্ষার শপথ ভঙ্গ করেছেন।

তিনি বলেন, সাংবিধানিক পদধারীর স্বপঠিত শপথের পরিপন্থী অথবা শপথের সাথে সাংঘর্ষিক যেকোনো কাজ আইনের দৃষ্টিতে গুরুতর অসদাচরণ। সংবিধান একজন সাংবিধানিক পদধারীর গুরুতর অসদাচরণকে নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধ হিসেবে গণ্য করেছে। এরূপ গুরুতর অসদাচরণ সংবিধান লঙ্ঘনের সমার্থক। তারা প্রকাশ্যে বিচার বিভাগের পবিত্রতাকে হেয় প্রতিপন্ন করেই চলেছেন। এটা গুরুতর ফৌজদারি অবমাননা ও সংবিধানের লঙ্ঘন।

এই আইনজীবী আরো বলেন, এরফলে এইসকল মন্ত্রীদের শপথ ভঙ্গ করার পর সাংবিধানিক পদে এক মুহূর্ত থাকার আর কোন নৈতিক ও সাংবিধানিক অধিকার নাই। সারা জাতির সামনে প্রতিশ্রুতি দিয়ে শপথ নিয়ে আইন ও সংবিধানের প্রকাশ্য লংঘন সাংবিধানিক পদে বহাল তবীয়তে থাকার অধিকারের বিলুপ্তি ঘটায়। সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুসারে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত আইন হিসেবে গণ্য এবং তা সকলের ক্ষেত্রেই মানা বাধ্যতামূলক। তাহলে, এইসকল প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ কি আইনের উর্ধে?

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইচএমএল



সর্বশেষ সংবাদ