বাংলা ফন্ট

ঢাবি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে বিদেশি শিক্ষার্থীরা

16-02-2017
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

ঢাবি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে বিদেশি শিক্ষার্থীরা ঢাকা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে বিদেশি শিক্ষার্থীরা। একসময় ভারত, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান, ইরান এমনকি আফ্রিকার দেশসমূহ হতেও শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসতেন। কিন্তু গত ১০ বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বিদেশি শিক্ষার্থী আসার সংখ্যা ক্রমেই কমছে। চলতি ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে মাত্র একজন বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন বলে জানা গেছে।

মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার মান আশানুরূপ না হওয়া, ভালো আবাসিক সুযোগ-সুবিধা না থাকা, ভর্তি-প্রক্রিয়ায় জটিলতা, ভাষাগত সমস্যা, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশ্ববিদ্যালয়ের যথাযথ পরিচিতি না থাকা ও দেশে একসময়ে বিরাজমান রাজনৈতিক অস্থিরতাকেই এ জন্য দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে বিদেশি শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে কোনো  উদ্যোগই গ্রহণ করা হয় না বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ ক্ষেত্রে ভালো আবাসিক সুবিধাসহ অন্যান্য সুবিধা দিতে না পারাকে দায়ী করছেন তারা।

সাধারণত বিদেশি শিক্ষার্থীরা ঢাবির স্যার পি জে হার্টজ আন্তর্জাতিক হলের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ওই হল কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৬-০৭ থেকে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে ১০ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র ৩২ জন বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ২০০৬-০৭ শিক্ষাবর্ষে সাতজন, ২০০৭-০৮ শিক্ষাবর্ষে দুইজন, ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষে সাতজন, ২০০৯-১০ ও ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে দুইজন করে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন। ২০১১-১২ ও ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হননি। ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষে পাঁচজন, ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে তিনজন, ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে তিনজন এবং সর্বশেষ ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে মাত্র একজন বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন।

হলের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. এমদাদুল ইসলাম জানান, হলে বর্তমানে ১৩২ জন বিদেশি শিক্ষার্থী রয়েছেন। তাদের অধিকাংশই বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজে পড়াশোনা করছেন।

তিনি আরো জানান, হলে মোট ১২৩টি কক্ষ রয়েছে। এর মধ্যে ৭০টিতে বিদেশি শিক্ষার্থীরা থাকেন। বাকি ৫৬টি কক্ষের মধ্যে ৫৩টি সিন্ডিকেটের অনুমোদন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা থাকেন এবং তিনটি কক্ষে অফিসাররা থাকেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন সূত্রে জানা গেছে, বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো নিজস্ব নীতিমালা নেই। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমেই তাদের ভর্তি হতে হয়। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশন জট, ওয়েবসাইট আপডেটেড ও আকর্ষণীয় না হওয়া এবং ভর্তির আনুষ্ঠানিকতা সময়সাপেক্ষ হওয়ায় বেশি সংখ্যক বিদেশি শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসছে না।

পি জে হার্টজ হলের প্রাধ্যক্ষ মো. লুত্ফর রহমান ঢাবিতে কম সংখ্যক বিদেশি শিক্ষার্থী আসার জন্য ভর্তির ক্ষেত্রে আমলাতান্ত্রিক জটিলতাকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ঢাবির হলে শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের বিদেশি শিক্ষার্থীরা থাকে না। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরাও থাকে। আমার হলে যে কটা সিট আছে সব সময় সেগুলো পূর্ণ থাকে বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজের ছাত্র দিয়ে। কিন্তু ঢাবিতে যারা ভর্তি হয় তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আমরা সিট দেই। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে আমলাতান্ত্রিক জাটিলতার কারণে বিদেশি শিক্ষার্থীরা কম আসে বলে আমি মনে করি।

তবে এ বিষয়ে ঢাবি উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, আমাদের মেডিক্যাল কলেজগুলোতে বহু  বিদেশি শিক্ষার্থী আছে। ট্যাকনিক্যাল এডুকেশনে আছে। সব মিলিয়ে  সেটা একটা বড় সংখ্যা।

বিদেশি শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে কোনো কৌশল নেওয়া হয় কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা তেমন কোনো কৌশল  নিই না। ছাত্র-ছাত্রীরা যদি আগ্রহী হয় তখন আমরা দেখি। আমাদের নিজস্ব ছেলে-মেয়েদের আমরা ভর্তি করার সুযোগ পাই না। এজন্য আমরা সেটাই অগ্রাধিকার দেই।

উপাচার্য আরো বলেন, বিদেশি শিক্ষার্থীরা আসলে আমরা স্বাগত জানাই। কিন্তু তাদের জন্য আমরা খুব বেশি সুযোগ-সুবিধা দিতে পারি না। ভাষাগত সমস্যা বেশি না। কিছু বাংলা তারা শিখে ফেলে। সমস্যা হলো তাদেরকে আমরা ভালো আবাসিক সুবিধা  দিতে পারি না।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইচএমএল

সর্বশেষ সংবাদ