বাংলা ফন্ট
বাড়ে দাম, খাওয়া দাওয়া, বাড়ে দুর্নীতি

রমজানে বাঙালির সংযম চিত্র

27-05-2018

রমজানে বাঙালির সংযম চিত্র
পৃথিবীর যে সমস্ত জাতি গোষ্ঠীর মধ্যে ইসলাম ধর্ম সর্বাধিক প্রসারিত বাঙালি জাতি তার মধ্যে অন্যতম। সারা দুনিয়ার সত্তর ভাগের বেশি বাঙালিদের আচারিক ধর্ম ইসলাম। এই হিসাব আবার বাংলাদেশিদের বেলয় নব্বই ভাগ। রোজা ও ঈদ যদিও ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান কিন্তু তা যখন একটি দেশের নব্বই ভাগ মানুষের যাপন ও উৎযাপনের ব্যাপার হয়ে উঠে তখন তা সার্বিকভাবে সমাজ, রাষ্ট্র, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। তবে রোজা যেহেতু ধর্মীয় আচারিক বিষয় কাজেই এর একটি ধর্মীয় নৈতিক শিক্ষা আছে। সেটা কী? সেটা হলো- সংযম চর্চার মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি লাভ। সেই সংযম শুধু আহারে নয়, আচারে, কর্মে, ভাবনায়। কিন্তু রোজা ব্যাপারটি গত চার পাঁচ দশক ধরে বাঙালিদের কাছে হয়ে উঠেছে উৎযাপনের বিষয়। রোজার নৈতিক শিক্ষার ব্যাপারটি এখানে একদমই মূল্যহীন হিসেবে পরিত্যক্ত হচ্ছে বরং রোজা রাখে সওয়াবের লোভে অথবা অন্যদের কাছে নিজেকে ধার্মিক হিসেবে উপস্থাপনের বাসনায়। ফলে 'দুপুরে' এক বেলা না খেয়ে সন্ধ্যায় এই শ্রেণীর লোকেরা যখন ইফতারির মহা আয়োজন নিয়ে বসেন তখন তার আয়োজন ও ভোজন মূল্য হয়ে উঠে তিন 'দুপুরের' সমান। ঈদের মাসে দেখা যায় সাধারণ মানুষ অন্যান্য মাসের তুলনায় বেশি পরিমাণ খাবার গ্রহণ করেন যাকে আদও সংযম বলা যায় কিনা ভাবা উচিত। আবার যেহেতু তার বেশি পরিমাণ খাদ্য গ্রহণ করেন ফলে এ মাসে তাদের খাদ্য ক্রয়ের পরিমাণও বেড়ে যায়। এই অসংযমী আম জনতা থেকে অসংযম প্রতিযোগিতায় যেন এক ধাপ এগিয়ে থাকে ছোটোখাটো ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন পেশাজীবীরা। ধরা যাক রোজার মাসের শুরুতেই মিটার বাড়তে থাকে রিকশাওলার-অটোওয়ালার। দুধে পানির পরিমাণ এবং দাম দু'ই বাড়িয়ে দেন দুধওয়ালা। দাম বাড়ে মাছের, দাম বাড়ে মাংসের ও সবজীর। এবার আসা যাক বড় ব্যবসায়ীদের প্রসঙ্গে। তাদের তো ঈমানের নিদর্শন থাকে মসজিদের মিনারে মিনারে। অবৈধ পয়সা দিয়ে তারা যে পরিমাণ মসজিদ মাদ্রাসা বানান তাতে করে এদের ঈমানের উচ্চতা তাদেরই মসজিদের মিনার না মেপে বলা মুশকিল। ধার্মিকরা প্রায়ই এদেরকে বেহেস্তের লোক মনে করেন কিন্তু এই শ্রেণীর লোকজনই সিন্ডিকেট করে রোজার আগে বাড়িয়ে দেয় দ্রব্য মূল্যের দাম এবং দেশের তাবৎ ইমানদারদের পকেট থেকে উড়ে আসা কড়কড়া নোটে ভরে উঠে এই সব বড় ব্যবসায়ীদের বড় ক্যাশ বাক্স। এছাড়াও কিছু কিছু ব্যাপার আছে যেমন- এ মাসে সাধারণ মানুষরা বেশি ঝগড়াঝাঁটি করে এবং রাস্তাঘাটে বেশ মারামারিও করে। রাজনীতিবিদরা ইফতার পাটি দেয় এবং মোনাজাত করে প্রচুর মিথ্যা কথা বলে। অসৎ কালোবাজারিরা দান খয়রাতির প্রচারণা বাড়ায়। নিজ নিজ এলাকার কিছু নিন্ম মানের লুঙ্গি শাড়ি বিতরণ করার মহড়া চালায়, এতে করে কিছু ভিক্ষুক স্বভাবের লোক পায়ের তলে পড়ে মারাও যায়। অল্প কথায় এই হলো বাঙালিদের সংযম পালনের চিত্র।



সর্বশেষ সংবাদ