বাংলা ফন্ট

শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী এখন সময়ের দাবি

16-05-2018
নিজস্ব প্রতিবেদক

 শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী এখন সময়ের দাবি
বর্তমান দুনিয়ার ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় দিন দিন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে বাংলাদেশ। অর্থনৈতিকভাবে একটু একটু করে পা ফেলছে সমৃদ্ধির পথে। দেশের প্রায় দুইশ মিলিয়ন  জনগণকে নিরাপদ রাখার লক্ষ্যে আমাদের প্রয়োজন একটি শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী।
সাম্প্রতিক মিয়ানমার সংকটে দেশের জনগণ বেশ গভীরভাবে উপলব্ধি করেছে একটি শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীর প্রয়োজনীয়তা। আমাদের রয়েছে বিস্তর সমুদ্রাঞ্চল। এটি যাতে ভূ-রাজনৈতিক খেলার মাঠ না হয়ে ওঠে সেদিকেও নজর দিতে হবে। নজর মানে যথাযোগ্য সমর শক্তি থাকতে হবে বাংলাদেশের বাহুতে। শক্তি থাকা মানে আগ্রাসন নয়। সেটি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতিতেই স্পষ্ট। প্রতিযোগিতা আমরা কারো সাথে করতে চাই না, কিন্তু নিজস্ব নিরাপত্তার প্রশ্নে আমাদেরও চাই তাবৎ আগ্রাসী শক্তিকে মোকাবেলার সামর্থ্য। দুর্বলের বিনয় আর মহৎ বচন ভাঁড়ের প্রলাপ বলে উপেক্ষিত যেখানে চিরকাল, সেখানে শক্তি ছাড়া বিনয় অচল।

পৃথিবীর কল্যাণের জন্য, দেশের বিরাট জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তার স্বার্থে বাংলাদেশের মতো মহান রাষ্ট্রের হাতে থাকা চাই যথাযোগ্য সমর শক্তি এবং তা অসম্ভবও নয়। জাতি হিসেবে আমরা যে মেধাবী এটা বিশ্ব স্বীকৃত। জনসংখ্যা ও আয়তনের দিক দিয়ে বিশ্বের ক্ষুদ্রতম দেশ ইসরাইল যদি সমর শক্তিতে অনন্য হতে পারে তবে আমরা কেন পারবো না! আমাদের ঘাড়ের উপরেও রয়েছে একটি মাথা। প্রয়োজন এটাকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো, প্রয়োজন সঠিক শিক্ষার, কর্মে-শৃঙ্খলায় এবং জাতীয় চেতনায় জনগোষ্ঠীকে উদ্বুদ্ধ করা।

বর্তমান পৃথিবীতে আমরা সাধারণত দুই রকমের সশস্ত্র বাহিনী দেখতে পাই। ১. ভীরু ও সন্ত্রাসী সশস্ত্র বাহিনী ২. বীর এবং দেশ প্রেমিক সশস্ত্র বাহিনী ।

ভীরু ও সন্ত্রাসী সশস্ত্র বাহিনী:

এই প্রকৃতির সশস্ত্র বাহিনীকে দেখা যায় প্রায়ই নিজ দেশের রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করতে। এরা রাজনীতিবিদ এবং দেশের জনগণের সাথে বেয়াদবি করে। রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করেন নিজ দেশের জনগণকে হত্যা করে, নির্যাতন করে। রাষ্ট্রের মধ্যে লুটপাট চালায়। এরা প্রায় সময়ই ভুলে যায় যে জন্ম সূত্রে এই ক্ষমতা তারা লাভ করেনি, তারা একটি সরকারের কর্মচারী এবং প্রতিরক্ষা বিভাগে কর্মরত। এমন বাহিনীর অফিসাররা হন সাধারণত মাফিয়া ডন । মাদক ও মানুষ পাচারের মতো আন্তর্জাতিক অপরাধে এদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। অন্য কোন দেশের সাথে যুদ্ধে এরা প্রায়ই হারে। এমন নিকৃষ্ট সশস্ত্র বাহিনীর উদাহরণ রয়েছে আমাদের প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারে।

বীর সশস্ত্র বাহিনী:

এই প্রকৃতির সশস্ত্র বাহিনী কখনোই রাজনীতিবিদদের হাত থেকে দেশের রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করেন না এবং নিজ দেশের জনগণের উপরে নিপীড়ন চালান না। এই প্রকৃতির সশস্ত্র বাহিনীকে দেশের সরকার ও জনগণ আপন মনে করে এবং এদের নিয়ে গর্ব করে। দুর্যোগে এবং দেশের সার্বভৗমত্ব বহিশক্তির হুমকির মুখে দাঁড়ালেই কেবল এ বাহিনী সক্রিয় হয়। তারা ভুলে যান না যে সরকারের অন্যান্য কর্ম বিভাগের মতো একটি বিভাগ মাত্র। বীর সশস্ত্র বাহিনীর পাশে দেশের জনগণ প্রয়োজনে সবকিছু উৎসর্গ করে দাঁড়ান। সমগ্র পৃথিবীর সাধারণ মানুষও এই প্রকৃতির সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি শ্রদ্ধা রাখেন, কেননা তারা সন্ত্রাসী নয়, বীর।

আমরা কেমন সশস্ত্র বাহিনী চাই:

বলার অপেক্ষা রাখে না বাংলাদেশের মানুষ তাদের সন্তানদের একটি বীর সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য হিসেবেই দেখতে চায়।১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল বাঙালির জাতীয় চেতনার জাগরণে। ইতিহাসের বাঁকেবাঁকে হাজার বছর ধরে মার খাওয়া একটি জাতি ১৯৭১ সালে পৃথিবীর বুকে জ্বলে উঠেছিল আপন অস্তিত্বে, আপন মানচিত্রে। কাজেই এই গৌরবময় চেতনা ও আত্মমর্যাদাকে ধারণ করেই বিকশিত হতে হবে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীকে। বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় আমাদের সেনা বাহিনীকে হতে হবে সবচেয়ে সৃজনশীল ও মানবিক। তবে আশার কথা হল বর্তমান বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে এসব গুণ কমবেশি পরিলক্ষিত হয়।

অস্ত্র শস্ত্র ও সক্ষমতা বিষয়ক দুই কথা:

বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য সংখ্যা খুব বেশি নয়। আবার খুব বেশি সংখ্যক সদস্য থাকলেই যে শক্তিশালী বাহিনী হয় তাও নয়। আজকের পৃথিবীতে একটি শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীর জন্য সাধারণত দরকার হয় দেশপ্রেমিক, দক্ষ, সৃজনশীল চৌকস সদস্য। চাই উন্নত প্রযুক্তির যুদ্ধাস্ত্র ও সমর কৌশল। আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর হাতে উল্লেখযোগ্য সমরাস্ত্র বা প্রযুক্তি যে নেই সেটা আমরা জানি। অথচ সমর শক্তিতে অনন্য হতে গেলে আমাদের দরকার হবে আকাশ থেকে জল অবধি, অভিনব সব যুদ্ধ সরঞ্জাম ও যুদ্ধাস্ত্র। বাস্তবে এ সব আমাদের নেই। কিন্তু যা নেই তা সৃষ্টি করতে হবে আমাদেরই। ক্রয়করা অস্ত্রে প্রকৃত পক্ষে শক্তিশালী হওয়া যায় না।
ঘনবসতিপূর্ণ এই দেশের নিরাপত্তার জন্য প্রথমেই দরকার হবে অকল্পনীয় ক্ষমতা সম্পন্ন মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম। অকল্পনীয়! হ্যাঁ- সে অকল্পনীয় প্রযুক্তিকে আমাদের কল্পনা করতে হবে এবং বাস্তবায়ন করতে হবে। সেই সাথে পারমানবিক অস্ত্রসহ পৃথিবীর তাবৎ অস্ত্রকে অকার্যকর করে দেওয়ার মতো প্রতিঅস্ত্রের কল্পনা এবং বাস্তবে সৃষ্টিও করতে হবে। বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীকে চিন্তা করতে হবে এমন অস্ত্রের যা মহাকাশ থেকে ছুটে আশা উল্কার হাত থেকে পৃথিবী এবং মানব জাতীকে রক্ষা করতে পারে।

বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী যেভাবে বিশ্বের ত্রিশ কোটি বাঙালির গর্ব হল:
 
যে কোন প্রতিষ্ঠান বা সংঘ নিয়ে একটি দেশের জনগোষ্ঠী কেবল তখনই স্বপ্ন দেখতে শুরু করে যখন ওই প্রতিষ্ঠানের কোন ইতিবাচক কাজ সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করে, গর্বিত করে। বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী জাতি সংঘের অধিনে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শান্তিরক্ষার মিশনে যে সাফল্য ও সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে- তাতে দেশের জনগণ বেশ গর্বিত। বিশেষ করে আফ্রিকার দেশ সিয়েরা লিওনে শান্তি প্রতিষ্ঠার পর আমাদের সেনা বাহিনীর কর্মকা-ে খুশি হয়ে সে দেশের সরকার  বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রীয় ভাষার মর্যাদায় অভিষিক্ত করে যে সম্মান প্রদর্শন করেছেন তাতে শুধু বাংলাদেশের বাঙালিরাই নয় সমগ্র বিশ্বের ত্রিশ কোটি বাঙালিই গর্বিত হয়েছেন। ধন্য বাংলাদেশ সেনা বাহিনী, বাঙালির সেনা বাহিনী।

সর্বশেষ সংবাদ