বাংলা ফন্ট

মাংসখেকো ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ঝুঁকিতে অস্ট্রেলিয়া

13-04-2017
নিজস্ব প্রতিনিধি ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

মাংসখেকো ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ঝুঁকিতে অস্ট্রেলিয়া
 
নিউজ ডেস্ক: ভয়ঙ্কর এক মাংসখেকো ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে অস্ট্রেলিয়ায়। এর সংক্রমণে আক্রান্ত হয়  মাংসপেশী। অস্ট্রেলিয়ায় বেড়াতে গিয়ে এ ব্যাক্টেরিয়া সংক্রমণে এক ব্যক্তি হারিয়েছেন তার দুই পা।

বিবিসি জানায়, আক্রান্ত টেরি পারেজা (৬৫) ফিলিপিন্সের নাগরিক। একমাস আগে আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করতে তিনি অস্ট্রেলিয়া গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তার মেয়ে জেফমারেই পারেজা।

পারেজার পরিবারের সদস্যদের ধারণা, একটি মাকড়শায় কামড়ানোর পর পারেজার শরীরে মাংস-খেকো ব্যাক্টেরিয়া প্রবেশ করে। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, পারেজার রোগের লক্ষণের সঙ্গে পরিবারের দাবি মেলে না।

নেক্রোটাইজিং ফ্যাসসিটিস এমন এক ব্যকটেরিয়া সংক্রমণের কারণে ঘটে যে ব্যাকটেরিয়া আমাদের নাক, গলা এবং চামড়ায় থাকে। সবসময় এটি ক্ষতিকারক না হলেও কোনও সময় তা মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে চামড়ার ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দিয়ে যেমন:- কাটা বা পোড়া দিয়ে এই ব্যাক্টেরিয়া হৃদযন্ত্র, ফুসফুস এবং মাংসপেশীতে প্রবেশ করলে তা প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। এটি তখন আক্রমণ করে মাংসে। ফলে কোষগুলো মরে গিয়ে অঙ্গ প্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে যায়।

জেফমারেই পারেজা বিবিসি’কে বলেন, “এটি বাবাকে জীবন্তই খেয়ে ফেলছে, বিশ্বাস করুন এটাই ঘটছে। তাকে ১২ থেকে ১৮ মাস হাসপাতালে থাকতে হবে।”

অস্ট্রেলিয়ার দুইটি হাসপাতাল পারেজা তাদের রোগী ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছে। তবে গোপনীয়তার কথা বলে তার রোগ সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে রাজি হয়নি।

পারেজার চিকিৎসা খরচের জন্য এখন পর্যন্ত এক লাখ অস্ট্রেলীয় ডলার অনুদান জমা হয়েছে।

তার মেয়ে বলেন, “তিনি শুধুমাত্র ছুটি কাটাতে এখানে (অস্ট্রেলিয়ায়) এসেছিলেন। তার এত করুণ পরিণতি, সত্যিই হৃদয়বিদারক।”

অস্ট্রেলিয়ার সংক্রমণ রোগ গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক মার্ক ওয়ালকের বলেন, “এ রোগ বিরল। নেক্রোটাইজিং ফ্যাসসিটিস এ আক্রান্ত হওয়ার পর তা দ্রুত শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে এ রোগের চিকিৎসা করা হয়। কিন্তু বুঝে উঠে চিকিৎসা নেওয়ার আগেই রোগ শরীরের অনেক ক্ষতি করে ফেলে।”

অস্ট্রেলিয়ায় হাজার হাজার মানুষ মাংসখেকো ব্যাকটেরিয়া থেকে বুরুলি আলসার নাম রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এ রোগ কোথা থেকে কিভাবে ঘটছে তা নিশ্চিতভাবে জানেন না চিকিৎসকরা।

ধারণা করা হয়, রোগটির জীবাণুবাহক মশা কিংবা ইঁদুর কোনও সুস্থ মানুষকে কামড়ালে তার শরীরে জীবাণু প্রবেশ করে। এরপর ক্ষতস্থানটি বড় হতে হতে মাংসপেশী আক্রান্ত হয় এবং একসময় তা গর্ত হয়ে বেরিয়ে পড়ে হাড়।

রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে সারানো যায়। কিন্তু রোগটিতে আক্রান্ত হওয়ার পর কয়েক মাস পর্যন্ত কোনো উপসর্গ দেখা না যাওয়ায় প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয় না। ফলে  রোগটি সনাক্ত হওয়ার পর রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইচএমএল

সর্বশেষ সংবাদ