বাংলা ফন্ট

বন্ধ্যাকরণ কেন জন্মনিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতি

18-09-2018
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

 বন্ধ্যাকরণ কেন জন্মনিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতি
ঢাকা: ভারতে ছত্তিশগড়ের এক নারী রাজী কেভাত। ২০১৪ সালে তার শরীরে ছোটখাটো একটি অপারেশন করা হয়েছিল যাতে তিনি আর মা হতে না পারেন।

ফেলোপিয়ান টিউবটিকে কোন এক জায়গায় আটকে দিয়ে করা এই অপারেশনকে বলা হয় লাইগেশন। নারীর বন্ধ্যাকরণের জন্যে এটাই সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতি।

ভারতীয় সরকারের প্রচারণায় উদ্বুদ্ধ হয়েই তিনি লাইগেশন করিয়েছিলেন। নিজের শরীরে অপারেশন করিয়েই তিনি ক্ষান্ত হননি, তার এক ননদ শিব কুমারী কেভাতকেও তিনি এজন্যে উপদেশ দিয়েছিলেন।

শিব কুমারীসহ ৮২ জন নারী তখন বিলাসপুর শহরের একটি হাসপাতালে জড়ো হন এই অপারেশন করাতে। একটি মাত্র সরঞ্জাম দিয়েই তাদের সবার অপারেশন করেন চিকিৎসক।

এমনকি এই অভিযোগও উঠেছে যে একজনের অপারেশন শেষ করে তিনি যখন আরেকজনকে অপারেশন করতে গেছেন তখন তার হাতের গ্লাভসও পরিবর্তন করেন নি।

তারপর এই নারীদেরকে রাখা হয়েছিল হাসপাতালের মেঝেতে।

ওই রাতে প্রচণ্ড বমি শুরু হলো শিব কুমারীর। তার পেটেও শুরু হলো তীব্র ব্যথা। তার কয়েকদিনের মধ্যেই তিনি মারা গেলেন।

সরকারি কর্মকর্তারা তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নানা কিছু বোঝাতে চেষ্টা করলেন। ভেজাল ওষুধকে দায়ী করলেন তারা।

কিন্তু পোস্টমর্টেম রিপোর্টে দেখা গেল শিব কুমারীর মৃত্যুর কারণ সেপটিসেমিয়া বা রক্তের দূষণ।

সম্ভবত অপারেশনের সময় ইনফেকশন বা সংক্রমণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।

ওই ক্যাম্পে যেসব নারীর লাইগেশন করা হয়েছিল তাদের মধ্যে তখন যে ১৩ জনের মৃত্যু হয় তাদের একজন এই শিব কুমারী।

তারপরেও, রাজী কেভাত বলেন, কেউ যদি তাকে বন্ধ্যাকরণের কথা বলেন, তিনি লাইগেশন করানোর কথাই বলবেন। তার কারণটাও খুব সোজা।

"যদি এটা না করান, আপনার পরিবার অনেক বড় হয়ে যাবে," বলেন তিনি।

জনপ্রিয়তায় এগিয়ে

রাজী কেভাতের মতো বিশ্বের বহু নারীর কাছে এটাই জন্মনিরোধের সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতি। সারা বিশ্বেই নারীদের পছন্দের তালিকায় এটা এক নম্বরে।

পশ্চিম ইউরোপ, কানাডা অথবা অস্ট্রেলিয়ায় এজন্যে নারীরা খাবারের বড়িই পছন্দ করেন কিন্তু এর বাইরে বিশ্বের অন্যত্র জনপ্রিয়তায় এগিয়ে লাইগেশনের মাধ্যমে বন্ধ্যাকরণ। বিশেষ করে এশিয়ার বেশিরভাগ দেশে এবং ল্যাটিন আমেরিকায়।

জাতিসংঘের উদ্যোগে ২০১৫ সালে করা এক জরিপে দেখা গেছে, সারা বিশ্বে বিবাহিত নারী কিম্বা যারা যে কোন ধরনের দাম্পত্য সম্পর্কের মধ্যে আছে, গড়ে তাদের প্রায় ১৯% বন্ধ্যাকরণের এই পদ্ধতির উপর নির্ভর করেন।

জনপ্রিয়তার দিক থেকে তারপরেই রয়েছে আই ইউ ডি, ১৪ শতাংশের কম নারী এটা পছন্দ করেন। এই পদ্ধতিতে গর্ভধারণ ঠেকানোর লক্ষ্যে নারীর জরায়ুর ভেতরে একটি যন্ত্র ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। তারপরেই রয়েছে খাবার বড়ি, ৯ শতাংশ নারী।

তবে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় ভারতে। সেখানে বিবাহিত নারীদের প্রায় ৩৯ শতাংশ এই পদ্ধতির ওপর নির্ভরশীল, যা বিশ্বের গড় হিসেবের প্রায় দ্বিগুণ।

বন্ধ্যাকরণের ইতিহাস

সরকারিভাবে এই বন্ধ্যাকরণের কর্মসূচি প্রথম শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্রে। ১৯০৭ সালে দেশটির ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে করা হয় এসংক্রান্ত একটি আইন, যাতে বলা হয় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদেরকে অবশ্যই বন্ধ্যাকরণ করতে হবে। এটাই ছিল প্রজনন সংক্রান্ত প্রথম কোন আইন।

পরে যুক্তরাষ্ট্রের আরো অনেক রাজ্যে এধরনের আইন পাস করা হয়। নাৎসিরা পরে ইহুদিদের বন্ধ্যাকরণের জন্যে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি বর্ণবাদী প্রজনন আইনকে নজির হিসেবে ব্যবহার করেছিল।

পরে ১৯৭০ এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যে করা এসংক্রান্ত আইনগুলো বাতিল করা হয়েছিল। তখন নারীবাদ এবং যৌনতার বিষয়ে বিপ্লবের প্রসার ঘটার কারণে জন্মনিরোধক বড়ির জনপ্রিয়তাও বাড়তে শুরু করে।

কিন্তু ঠিক এই একই সময়ে ফিলিপিন, ভারত ও বাংলাদেশসহ ঔপনিবেশিক বিভিন্ন দেশে আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় বন্ধ্যাকরণের কর্মসূচি শুরু হয়। এজন্যে অর্থ দেওয়া হতো চীন এবং পেরুকেও।

বর্তমানে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক নারীকে বন্ধ্যাকরণ করা হয় ভারতে।
ভারতে সরকারি তৎপরতা

ভারতই হচ্ছে বিশ্বের প্রথম কোন দেশ যেখানে পরিবার পরিকল্পনার জন্যে গঠন করা হয়েছিল সরকারি বিভাগ। তাদের কাজই ছিল মূলত বন্ধ্যাকরণ।

ভারত সরকার এই কর্মসূচি জোরেশোরে শুরু করে ১৯৭০ এর দশকে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ও দেশ তখন ভারতকে সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসে। তাদের মধ্যে রয়েছে বিশ্বব্যাংক, যুক্তরাষ্ট্র সরকার এবং ফোর্ড ফাউন্ডেশন।

সেসময় যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা দপ্তরের পরিচালক আর টি র‍্যাভেনহোল্ট বলেছিলেন সরকারের লক্ষ্য ছিল সারা বিশ্বে সন্তান জন্মদানে সক্ষম যত নারী আছে তার এক চতুর্থাংশের বন্ধ্যাকরণ। এদের সংখ্যা ১০ কোটি।

তার যুক্তি ছিল - যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা বিজ্ঞানের যে অগ্রগতি হয়েছে তার ফলে বিশ্বের জনসংখ্যা বাড়ছে। আর সেকারণে এটা নিয়ন্ত্রণে রাখাও তাদের দায়িত্ব। কিন্তু এজন্যে পুরুষদের পরিবর্তে বেছে নেওয়া হয়েছিল নারীদেরকেই।

পরিবার পরিকল্পনার জন্যে যুক্তরাষ্ট্র এখনও বিশ্বের বহু দেশকে আর্থিক সহযোগিতা দিয়ে আসছে। এই কর্মসূচিকে বলা হয় ইউএসএইড। ২০১৪ সালে এই কর্মসূচির উদ্যোগে করা এক গবেষণায় বলা হয়েছিল সারা বিশ্বে বন্ধ্যাকরণের সংখ্যা বেড়েছে।

ভারতে পুরুষদের লক্ষ্য করেও এরকম একটি কর্মসূচি শুরু করা হয়েছিল যার আওতায় নিম্ন আয়ের ৬০ লাখ পুরুষকে ভ্যাসেকটমি অপারেশনের মাধ্যমে সন্তান জন্মদানে অক্ষম করে তোলা হয়েছিল। কিন্তু তাদের মধ্যে ২,০০০ পুরুষের মৃত্যুর পর পরিবার পরিকল্পনার ব্যাপারে সরকার তার দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে শুরু করে।

দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন

এর আগে ভারতীয় কর্মকর্তাদের সামনে একটা টার্গেট ছিল যে তাদেরকে এতো সংখ্যক নারীর লাইগেশন করাতে হবে। কিন্তু এরপর থেকে তারা খাবার বড়ির মতো অস্থায়ী পদ্ধতির পেছনে অর্থ খরচ করতে শুরু করে।

সরকারি উদ্যোগে গত দু'বছর ধরে চলছে মিশন পরিবার বিকাশ নামের একটি কর্মসূচি, এর আওতায় তিন ধরনের হরমোনাল পদ্ধতির ব্যবহারের জন্যে লোকজনকে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যার একটি প্রোজেস্টিন-ভিত্তিক জন্মনিরোধক বড়ি।

তারপরেও ভারতে যে বন্ধ্যাকরণ শুধু জনপ্রিয় সেটাই নয়, এই পদ্ধতি ব্যবহারের সংখ্যাও বাড়ছে। জাতিসংঘের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত এক দশকে সারা বিশ্বে বিবাহিত কিম্বা দাম্পত্য সম্পর্কে আছে এরকম নারীদের মধ্যে বন্ধ্যাকরণের হার ২০ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ১৯ শতাংশে কমে গেছে। কিন্তু ভারতে এই সংখ্যা ৩৪ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৩৯ শতাংশ। বন্ধ্যাকরণের জন্যে সরকারি ক্যাম্পও চালু ছিল ২০১৬ সাল পর্যন্ত।

যুক্তরাষ্ট্রেও এই বন্ধ্যাকরণ পদ্ধতি খাবার বড়ির চাইতেও জনপ্রিয়। জাতিসংঘের হিসেবে যাদের সন্তান জন্মদানের বয়স হয়েছে তাদের ২২ শতাংশ বন্ধ্যাকরণ পদ্ধতি ব্যবহার করেন কিন্তু বড়ি খান ১৬ শতাংশ। অন্যান্য উন্নত দেশের তুলনায় এই পরিসংখ্যান একেবারেই বিপরীত।

এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয় যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য বীমার কথা যাতে অন্যান্য অস্থায়ী জন্মনিরোধক ব্যবহারের বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। এছাড়াও একবার বন্ধ্যাকরণ করে নিলে সেটা সারা জীবন ধরে বড়ি খাওয়ার চেয়ে সস্তা। এছাড়াও অতীতে বিভিন্ন রাজ্য সরকারও স্থায়ী বন্ধ্যাকরণের জন্যেই নারীদের, বিশেষ করে দরিদ্র কৃষ্ণাঙ্গ ও হিস্পানিক নারীদের উৎসাহিত করতো।

কেন জনপ্রিয়

সারা বিশ্বেই যেসব নারী সন্তান নিতে চান না, কিম্বা যেসব মা মনে করেন যে তাদের আর সন্তানের দরকার নেই তাদের জন্যে বন্ধ্যাকরণই নিরাপদ ও কার্যকর পদ্ধতি বলে তারা মনে করেন। যেমন যুক্তরাষ্ট্রে নতুন হওয়া মায়েদের অনেকেই সন্তান জন্মদানের পরপরই এই পদ্ধতিকে গ্রহণ করেন কিন্তু বাকিরা যারা কনডম কিম্বা খাবার বড়ির মতো অস্থায়ী পদ্ধতি ব্যবহার করতেন, পরিবারের সদস্য সংখ্যা যথেষ্ট হয়ে যাওয়ার পর তারাও বন্ধ্যাকরণ পদ্ধতির দিকে চলে যান।

এর ভাল দিক হচ্ছে, এই নারীদেরকে আর কখনোই জন্মনিরোধের পদ্ধতি নিয়ে ভাবতে হবে না এবং একবার এই পদ্ধতিতে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়ার পর তার শরীরে কোন ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ারও সৃষ্টি হবে না।

কিন্তু ছত্তিশগড়ের মতো ভারতে যেটা হয়েছে যে সেখানে বহু নারীই এই পদ্ধতির তাৎপর্য পুরোপুরি না বুঝেই সেটা গ্রহণ করেছে। এছাড়াও যেভাবে ও যে পরিবেশে এটা করা হয়েছে সেটাও নারীর জীবনের জন্যে নিরাপদ নয়।

বিলাসপুরে শিব কুমারীর বাড়ির খুব কাছেই একটি হাসপাতালের পরিচালক ইওগেশ জৈন বলেছেন, "এখানে যে ট্র্যাজিক ঘটনা ঘটেছে সেটা হওয়ারই কথা।" তিনি মনে করেন দরিদ্র নারীদের জন্যে যে নীতি গ্রহণ করা হয়েছে তাতে তাদের মৃত্যু অবধারিত। এসব নীতিতে নারীদেরকে একটি জরায়ু কিম্বা এক জোড়া হাতের চেয়ে বেশি মূল্য দেওয়া হয় নি।"

অন্ধকার দিক

ছত্তিশগড়ের বন্ধ্যাকরণ ক্যাম্পে যেসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে সেগুলো তদন্ত করে পপুলেশন ফাউন্ডেশন অফ ইন্ডিয়া দেখেছে, বন্ধ্যাকরণের চিকিৎসাগত প্রক্রিয়ার পেছনে যতো অর্থ খরচ হতো রাজ্য সরকার এই পদ্ধতি গ্রহণের ব্যাপারে নারীদেরকে উৎসাহিত করতে তারচেয়ে ২০ গুণ বেশি অর্থ খরচ করতো। এজন্যে প্রত্যেক নারীকে দেওয়া হতো ৬০০ থেকে ১৪০০ রুপী।

কিন্তু ২০১৪ সালের ট্র্যাজেডির পর কেন্দ্রীয় সরকারও স্বীকার করে নেয় যে এই অপারেশনের গুণগত মান ছিল খুবই খারাপ। সেকারণে পপুলেশন ফান্ড অফ ইন্ডিয়া ক্যাম্প বসিয়ে বন্ধ্যাকরণের কর্মসূচি নিষিদ্ধ করার সুপারিশ করেছিল এবং ভারত সরকারও তাতে সম্মত হয়।

তারপর থেকে এই কর্মসূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে শুরু করে। এখন বন্ধ্যাকরণে আগ্রহী নারীদেরকে সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনগুলোতে নির্দিষ্ট একটি স্থানে যেতে হয়। ফলে অপারেশন যেভাবে হয় এবং যেখানে হয় তার মান আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে। এবং কর্তৃপক্ষও এসবের উপর নজর রাখতে পারে।

তবে ভারতের অনেক জায়গাতেই নির্ধারিত এই সময় ও স্থান চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট নয়।

যেমন বিলাসপুর থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে মুঙ্গেলি জেলার একটি হাসপাতালে মাত্র একজন চিকিৎসক সপ্তাহে দু'দিন বন্ধ্যাকরণের কাজটি করেন। এই দু'দিনে মাত্র ২০টি অপারেশন করতে পারেন তিনি। কিন্তু ওই জেলার প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেছেন, আগ্রহী নারীদের তুলনায় এই সংখ্যা খুবই কম।

অতীতের কলঙ্কজনক ইতিহাস সত্ত্বেও ছত্তিশগড়ের বহু নারীর কাছে এই পদ্ধতি এখনও প্রথম পছন্দ।

কিন্তু এই কাজের প্রক্রিয়া নিয়ে এখনও রয়ে গেছে বিতর্ক। অত্যন্ত নিরাপদ পরিবেশে অপারেশন করার পরেও ভ্যাসেকটমির চেয়েও অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ লাইগেশনের অপারেশন। তারপরেও পুরুষদের তুলনায় নারীরাই এই বন্ধ্যাকরণের ব্যাপারে বেশি আগ্রহী।

লাইগেশনের ব্যাপারে নারীদেরকে শুধুমাত্র সম্মতি দেওয়া ছাড়া আর কিছুই করতে হয় না। কনডম ব্যবহার কিম্বা খাবার বড়ির ক্ষেত্রে যেমন কিছু নির্দেশনা মেনে চলতে হয় লাইগেশনের বেলাতে সেই সমস্যা থাকে না।

কিন্তু একজন নারীর একবার যখন বন্ধ্যাকরণ হয়ে যায় তখন আর তাকে গর্ভধারণের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করার জন্যে চিন্তা করতে হয় না। অনেক সময় সরকারও তার সুযোগ নিয়েছে।

পেরুতে ১৯৯০ এর দশকে দরিদ্র নারীদেরকে না জানিয়েই সরকারি চিকিৎসকরা তাদের লাইগেশন করেছেন। বরং এসময় তারা নারীদের বলেছেন যে তারা তাদের শরীরে ভিটামিন ঢুকিয়ে দিচ্ছেন।

সরকারিভাবে এতো গুরুত্ব দেওয়া এবং এর জনপ্রিয়তার কারণে নারীরা অন্যান্য পদ্ধতি ব্যবহার করতে চান না। দেখা গেছে, ভারতে যে নারী একবার বন্ধ্যাকরণ করেছেন, তারা তাদের জীবনে এই পদ্ধতি ছাড়া আর কোন কিছু পদ্ধতি যেমন আই ইউ ডি, প্যাচ কিম্বা বড়ি ব্যবহার করেন না। এখানেও একটা স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি থেকে যায়। বিরতি না দিয়ে একের পর এক সন্তান গ্রহণের কারণে নারী ও শিশু উভয়েরই মৃত্যুর হার কিম্বা অন্যান্য শারীরিক জটিলতা বেড়ে যেতে পারে।

এটাও বলতে হবে যে খাবার বড়ি কিম্বা প্যাচের মতো জন্মনিরোধক চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত নয়। আই ইউ ডি প্রবেশ করানোর জন্যে প্রশিক্ষিত পেশাজীবীর সংখ্যাও কম। সামাজিক কারণেও এসব পদ্ধতির ব্যাপারে নারীদের জ্ঞানেরও অভাব রয়েছে।

সবাই আগ্রহী

দিল্লির বেসরকারি একটি ক্লিনিকের গাইনোকোলজিস্ট মাধু গোয়েল বলেছেন, তার এখানে বিত্তশালী ও শিক্ষিত নারীরাই আসেন এবং তাদেরও আগ্রহ বন্ধ্যাকরণের ব্যাপারে। তিনি বলেন, ধারণা করা হতো বয়স্ক নারীরাই এটা করাতে চান। কিন্তু এটা সত্য নয়। তরুণীরাও আগ্রহী। তিনি দেখেছেন তরুণীদের মধ্যে খাবারের বড়ি নিয়ে কিছু ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে- তারা মনে করে বড়ি খেলে সন্তান জন্মদানের ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

তবে গোয়েল বলছেন, সমাজে একটা পরিবর্তন ঘটেছে- আর সেটা হলো জন্মনিরোধের জন্যে কী কী ব্যবস্থা আছে নারীরা এখন সেসব ব্যাপারে আগের তুলনায় অনেক বেশি সচেতন।

তিনি বলেন, ভারতে এখন বিবাহ বিচ্ছেদের হার বাড়ছে। সেকারণে নারীরা বন্ধ্যাকরণ করার পরেও অপারেশনের মাধ্যমে সন্তান জন্মদানের ক্ষমতা ফিরে পেতে চান। তারা আশা করেন, শারীরিক এই ক্ষমতা নিয়েই নতুন স্বামীর সাথে তারা শুরু করবেন নতুন জীবন।

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইএমএল


সর্বশেষ সংবাদ