বাংলা ফন্ট

থ্রি়ডি প্রিন্টারেই কৃত্রিম অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ!

22-04-2018
নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম

 থ্রি়ডি প্রিন্টারেই কৃত্রিম অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ!  
ঢাকা: শরীরের কোনো অঙ্গ বিকল হলে অনেক সময়ে দাতার খোঁজ পড়ে৷ কিন্তু চাহিদার তুলনায় যোগান বড় কম৷ এবার থ্রি়ডি প্রিন্টারে কৃত্রিম অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ চলছে৷ জার্মানির এক স্টার্টআপ কোম্পানি সেই স্বপ্ন দেখছে৷

টেস্ট টিউবে একটি বিন্দু আস্ত একটা যকৃত হয়ে উঠবে, এমনটাই হলো লক্ষ্য৷ লুৎস ক্লকে এই একটি লক্ষ্যেই কাজ করে চলেছেন৷ একটি কোম্পানি খুলে তিনি কৃত্রিম অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তৈরি করতে চান৷ এভাবে তিনি অঙ্গ প্রতিস্থাপনের বাজারে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করতে চান৷ কিডনি ও যকৃতের মতো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের বিপুল চাহিদা রয়েছে, অথচ যথেষ্ট সংখ্যক দাতা নেই৷ এই পরিস্থিতি বদলাতে কী করতে হবে? লুৎস ক্লকে বলেন, ‘‘রোগী যেন তার নিজস্ব ট্রান্সপ্লান্ট পান৷ তিনি ডাক্তারের কাছে বা হাসপাতালে গেলে তাঁর কোষ সংগ্রহ করে ল্যাবে তার নকল করে অসংখ্য কোষ তৈরি করা হবে৷ সেই কোষের খাঁচার মধ্যে নতুন অঙ্গ তৈরি হবে৷''

নিজের তৈরি এই অরগ্যানিক-থ্রিডি প্রিন্টারে সেটা সম্ভব হবে৷ ড্রপারের মধ্যে কোষ ও অরগ্যানিক কালির মিশ্রণ ঘটে, যা আসলে এক ধরনের আঠা৷ জার্মানিতে অঙ্গের টিস্যু প্রিন্ট করার ক্ষেত্রে যারা সাফল্য পেয়েছে, এই টিম তাদের অন্যতম৷ লুৎস ক্লকে বলেন, ‘‘এই প্রযুক্তির ক্ষেত্রে যথেষ্ট অগ্রগতি আনাই আমাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য৷ এই প্রথম আমরা ফিজিওলজিকাল মডেল প্রিন্ট করতে পারছি৷ সেগুলি মানুষের অঙ্গের কাজ নকল করতে পারে৷''

এই যকৃত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে৷ কৃত্রিম এই যকৃতের টিস্যুর নাম রাখা হয়েছে ‘লোবুলাস'৷ সেলব্রিক্স কোম্পানির টোবিয়াস গ্রিক্স বলেন, ‘‘এই একটি ‘লোবুলাস' যকৃতের সব কাজ করতে পারে৷ বাস্তবে মানুষের শরীরে সেই যকৃত কী প্রতিক্রিয়া দেখাবে, নানা পদার্থ দিয়ে আমি সেটি পরীক্ষা করে যাচাই করে নিতে পারি৷''

বায়োকেমিস্ট হিসেবে লুৎস ক্লকে বলেন, ‘‘ছোট এই মডেলগুলি বেশ কার্যকর ও প্রয়োগের যোগ্য হলেও দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে আমরা এমন অঙ্গ তৈরি করতে চাই, যা জীবন বাঁচাবে৷''

বিনিয়োগকারী হিসেবে রাইনার ক্রিস্টিনে মনে করেন, সেটা এত দ্রুত সম্ভব হবে না৷ স্টার্টআপ কোম্পানি এমন স্বপ্ন দেখতেই পারে৷ তিনি এ ক্ষেত্রে অনেক অর্থ ঢেলেছেন, সেলব্রিক্স কোম্পানিকেও চেনেন৷ অরগ্যান-প্রিন্টিং-এর জন্য তিনি অর্থ দিতে প্রস্তুত নন৷ আর্লিবার্ড কোম্পানির রাইনার বলেন, ‘‘আমার মনে হয়, বিষয়টি এখনো অলীক স্বপ্ন৷ এর বিপুল সম্ভাবনা অবশ্যই রয়েছে৷ তবে প্রকল্পগুলি এখনো বিনিয়োগের যোগ্য হয়ে ওঠে নি৷ এখনো এটি মৌলিক গবেষণার পর্যায়ে রয়েছে৷ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষেত্রে বাইরের রূপ মূল বিষয় নয়, তার ভিতরটা অত্যন্ত জটিল৷ সে কারণে এমন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রিন্টিং-এর পর্যায়ে পৌঁছানো বিশাল এক চ্যালেঞ্জ৷''

এখনো প্রিন্টারে সম্পূর্ণ পরিণত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সৃষ্টি করা সম্ভব নয়৷ তবে কৃত্রিম ক্যানসার টিউমার এখনই হাসপাতালে বিক্রি করা হচ্ছে৷ আনেটে ক্যুংকেলে শিশু চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ৷ সেলব্রিক্স কোম্পানির এই সৃষ্টির সাহায্যে তিনি ক্যানসার গবেষণার উন্নতি করতে পারছেন৷ ক্যানসার গবেষক আনেটে ক্যুংকেলে বলেন, ‘‘আমরা পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এমন এক থ্রিডি টিউমার মডেল সৃষ্টি করছি, যার সাহায্যে চিকিৎসার আগেই আমরা মূল্যবান তথ্য পাচ্ছি৷ যেমন সেই থ্রিডি কাঠামোয় প্রবেশ করতে পারে, এমন ইমিউন সেল চিহ্নিত করছি৷ কোন  ইমিউন সেল হাসাপাতালে চিকিৎসার কাজে লাগানো যায়, এই মডেলের মাধ্যমে পাওয়া সেই জ্ঞানের ভিত্তিতে আমরা তা স্থির করতে পারি৷''

এখনো এই স্টার্টআপ কোম্পানি বড় আকারে ব্যবসা করতে পারছে না৷ বিনিয়োগকারীরাও লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়ে এগিয়ে আসছেন না৷ কর্মীদের অপেক্ষাকৃত কম বেতনে সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে৷ তবে ক্লকে তাতে বিচলিত নন৷ তিনি নিজের স্বপ্ন পূরণ করতেই ব্যস্ত৷

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইএমএল





সর্বশেষ সংবাদ