বাংলা ফন্ট

গান দিয়ে দ্বার খোলা

16-04-2017
শহীদ ইকবাল

গান দিয়ে দ্বার খোলা


রবীন্দ্রনাথের কথা দিয়েই শুরু করা যেতে পারে : ‘আমাদের ভাব প্রকাশের দু’টি উপকরণ আছে কথা ও সুর। কথাও যতখানি ভাব প্রকাশ করে, সুরও প্রায় ততখানি ভাবপ্রকাশ করে। এমনকি, সুরের উপরেই কথার ভাব নির্ভর করে। একই কথা নানা সুরে নানা অর্থ প্রকাশ করে।
অতএব, ভাব প্রকাশের অঙ্গের মধ্যে কথা ও সুর উভয়কেই পাশাপাশি ধরা যাইতে পারে। সুরের ভাষা ও কথার ভাষা উভয় ভাষা মিলিয়া আমাদের ভাবের ভাষা নির্মাণ করে। কবিতায় আমরা কথার ভাষাকে প্রাধান্য দেই ও সঙ্গীতে সুরের ভাষাকে প্রাধান্য দেই।’  রবীন্দ্রসাহিত্যে এভাবেই ‘বাণী ও সুর’ অন্তর্লীনরূপে বিচিত্রব্যাপ্ত, প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে। এটি অনুভবের বিষয় যেমন তেমনি গভীর চিন্তনেরও।
ভালো-মন্দ, সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বিষাদ, বন্ধন-মুক্তি এমন বিপরীতাত্মক দ্যোতনায় রবীন্দ্রবীণা উপলভ্যপ্রবণ এমনটা কেউ আজ অস্বীকার করবে না। কেননা জীবনের ঘাত-প্রতিঘাতে রবীন্দ্রসংহারমূর্তি ব্যক্তিক থেকে হয়েছে নৈর্ব্যক্তিক, সমাজ সংসার নিরপেক্ষরূপে পেয়েছে পরিপূর্ণতা। এমনকী তা পেরিয়ে গেছে লোকাতীত অনন্ত অসীমে।
বস্তুত, এমন সর্বংসহ কবি ও গীতিকার বাঙালির মধ্যে নিশ্চয়রূপে দুর্লভ। রবীন্দ্রনাথের সব গানই যে শিল্পোত্তীর্ণ তা হয়তো নয়, কিংবা সব গানেই যে তাঁকে পাওয়া যাবে তাও নয়; অবশ্য সেটি মানার প্রয়োজনও নেই কিন্তু রবীন্দ্রয়ানের যে চিন্তন-কাঠামো সেখানে গান অধিকার করেছে ‘অন্ধজনে দেহ আলো’ আশ্রয়ের শক্তি। ‘অবহিতজন বলেন রবীন্দ্রসঙ্গীতের কথা আর সুর হরিহরাত্মা। অর্থাৎ কিনা শব্দবাক্য আর সুরছন্দ যেন space-time continuum-এর মতো একে অপরে অবিচ্ছেদ্য জড়িয়ে আছে।’
এখন কয়েকটি জিনিস আমরা বুঝে নিতে পারি
এক. ‘গীতবিতান’ পাঠযোগ্য কবিতা যেখানে কাব্যমূল্য আছে।
দুই. রবীন্দ্র গানে ইম্প্রোভাইজেশন নেই, অনেকটা ইউরোপীয় ফর্মের মতো ‘সৃষ্টিতে পরিপূর্ণ’।
তিন. তাঁর গানকে কয়েকরকমে উপলব্ধি করা যায় কারণ, বাণী ও সুরের অভেদাত্মক নান্দনিক রূপ যা চৌম্বক-অনুভবে সহজেই স্মৃতিগ্রাহ্য।
চার. সঞ্চারীর সঞ্চরণে যে অসামান্যতার আরোহন যা তাকে করে তোলে বহুমাত্রিক (পরবর্তীতে আধুনিক বাংলা গানে যা যুক্ত হয়েছে)। উদ্ভাবিত সঞ্চারীর প্রয়োগে গানের ভাব পাল্টায় এবং আধুনিকীকরণের  নতুন মাত্রা যোজিত হয় যা সমসাময়িক অন্য গীতিকারদের (যেমন : দ্বিজেন্দ্রলাল, অতুলপ্রসাদ প্রমুখ) থেকে পৃথক।
যা হোক, এরকম আরও অনেক অনুসন্ধান রবীন্দ্র গানে চলতে পারে কিন্তু সর্বসাকুল্যে কথা যে ‘প্রাণহীন এ দেশে গানহীন যেথা চারিধার’ সেখানে রবীন্দ্রনাথ গান দিয়েই দ্বার খুলেছেন এবং নিজে ব্যক্ত হয়েছেন গানের ভেতরেই।
২.
কেমন তার গান, কী তার বিশেষত্ব? উপর্যুক্ত ধারণায় রবীন্দ্রনাথের বিরাটত্ব পরিমাপ করা সম্ভব কী? তা যেমন অসম্ভব তেমনি সমস্যাক্রান্ত নয়! সংস্কৃতিবান বাঙালির কাছে রবীন্দ্রনাথ ‘দেবতা’ না বন্ধু! তবে তাঁকে নামিয়ে আনতে হয়, উপভোগের লীলায়, আধুনিকতার সম্ভাব্য ‘যোগী’রূপে। তাঁর সময়ের দ্বিজেন্দ্রলাল, রজনীকান্ত, অতুলপ্রসাদ, দীলিপ রায় কিংবা নজরুল ইসলাম থাকলেও রবীন্দ্রনাথ স্বীয় শক্তি লাভ করেন এবং প্রায় সবাইকেই তিনি উল্লঙ্ঘন করে বিরাটত্ব পান।
স্মর্তব্য যে, গদ্যের যুগে যখন রবীন্দ্রনাথের জন্ম তখন অনেক কিছু থাকলেও গানের কোনো মডেল ছিল না। রবীন্দ্রনাথের গানের যে অভিনবত্ব তা জীবন থেকে নেয়া। সর্বংসহা রবীন্দ্রনাথ দুঃখ-কষ্ট-বেদনা-বিরহকে রাঙিয়েছেন। পরিবারে-সমাজে অসংখ্য মৃত্যুকে ধারণ করেছেন। তাঁর মিউজিক এক অর্থে মেডিটেশনতুল্য। সেখানে নিজেকে স্খলিত করেই তিনি নিজেকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছেন।
যেমন :
                       কেন সারাদিন ধীরে ধীরে
                                বালু নিয়ে শুধু খেল তীরে/
                                চলে গেল বেলা, রেখে মিছে খেলা
                             ঝাঁপ দিয়ে পড়ো কালো নীরে।
                             অকূল ছানিয়ে যা পাও তা নিয়ে
                               হেসে কেঁদে চলো ঘরে ফিরে
                       নাহি জানি মনে কী বসিয়া
                       পথে বসে আছে কে আসিয়া।
                              কী কুসুমবাসে ফাগুনবাতাসে
                              হৃদয় দিতেছে উদাসিয়া।
                       চল্ ওরে এই খ্যাপা বাতাসেই
                              সাথে নিয়ে সেই উদাসীরে/
একইভাবে,
                  একলা ব’সে একে একে অন্যমনে     পদ্মের দল ভাসাও জলে অকারণে।
                  হায় রে, বুঝি কখন তুমি গেছ   ভুলে ও যে আমি এনেছিলেম আপনি তুলে,
                        রেখেছিলেম প্রভাতে ওই চরণমূলে   অকারণে
                        কখন তুলে নিলে হাতে যাবার ক্ষণে         অন্যমনে
                        দিনের পরে দিনগুলি মোর এমনি ভাবে
                        তোমার হাতে ছিঁড়ে ছিঁড়ে হারিয়ে যাবে।
                        সবগুলি এই শেষ হবে যেই তোমার খেলায়
                        এমনি তোমার অলস-ভরা অবহেলায়
                        হয়তো তখন বাজবে ব্যথা সন্ধেবেলায়      অকারণে
                          চোখের জলে লাগবে আভাস নয়নকোণে       অন্যমনে

রবীন্দ্রনাথের গান বাণীপ্রধান। এখানে ‘একক’ রবীন্দ্রনাথ, এককভাবে মুখোমুখি যেন ‘নিজের দর্পণে দেখা’, ঠিক এক ‘যোগী’। গান যখন এসেছে তখন তিনি উন্মুক্ত, নগ্ন, প্রবলরূপে ব্যক্তপ্রবণও। তবে তিনি ক্ষেদ-বিষাদের ভেতরে আত্মমগ্নও ছিলেন। সুরের ক্ষয় তিনি চান নি। তিনি বলেছেন : ‘ভয় হয় পাছে সুর ভুলি/ ছিন্নতারের জয় হয়’।
কথা ও সুরকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছেন। তাঁর গানে সুর বসানো। ফাঁক নেই। দরদ দিয়ে মন ভরে গাইতে হয়। সুর ও কথাকে নিজের কথায় বলতে হয়। তাতে অনেককিছুর সঙ্গে বিষাদ বা বিরহকে দিয়েছেন মিশিয়ে। এটাই জিনিয়াসনেস।
সীমাহীন প্রকৃতি, নদী আর জনজীবনের চিত্র অপূর্ব সুষুমায় ধরা পড়েছে রবীন্দ্রনাথের গানে। পূর্ববঙ্গ এখানে অকুস্তল। মুগ্ধতা এসেছে চেনা জীবনের হাত ধরে, মাটির কাছাকাছি মানুষের কাছে এসে। অতীতে এ লোকজ জীবনে কারো চোখ পড়েনি।
লালন, গগন হরকরার শিষ্যদের সঙ্গে থেকেছেন তিনি; পূণ্যাহের রাত্রে সাধারণ বাউলদের সঙ্গে বসেছেন, গ্রামের চারদিকের দরিদ্র ও নিম্নস্তরের সরল মানুষদের সঙ্গে ঘুরে বেড়িয়েছেন। এ এক নতুন জীবনপ্রণালীর সাক্ষাৎ যেন। ‘ছিন্নপত্রে’র পরতে পরতে যে সত্য প্রকাশিত।
এ প্রকৃতি তাঁকে আচ্ছন্ন করে। বজরার ভেতরে গানের আসর বসান তিনি। শোক-দুঃখ, বিষাদ-বিরহ অনন্ত অসীমে অবিচ্ছিন্নরূপে ধায় যেন। গানের ভেতরেই জীবনের মোক্ষও অর্জিত হয়। ‘দীর্ঘ আয়ু দীর্ঘ অভিশাপ’ থেকে একপ্রকার মুক্তিই ঘটে, ‘গানের ওপারে দাঁড়িয়ে’।
তাঁর ব্যক্তিজীবনের মুক্তিও সেখানেই ঘটেছে। তবে তার গানের যে ক্রম সেখানে সাধনার স্তরও ধরা পড়ে। রবীন্দ্রগানে কার্যত স্বরলিপি হয় না (‘এ কি সত্য সকলি সত্য’ গানটি ছাড়া), পরম্পরার ভেতর দিয়ে তার গান অত্যাশ্চর্যরূপে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। দীনেন্দ্রনাথ ঠাকুরই প্রত্যক্ষভাবে তাঁর সুরের ধারক ছিলেন। তান-বর্জিত এ সুরে কী করে যে ‘মুড’ এলো, কীভাবে সুর এলো কেউ তা জানে না।
‘আলোর অমল কমলখানি কে ফুটালে,/ নীল আকাশের ঘুম ছুটালে’ এখানে ‘আলো’র আ.......(প্রসারিত করে) আলোর উদ্ভাসন ঘটান। তারপর ‘কমলখানি যেন...’ সিদ্ধরাগের বাইরে এ এক নতুন রাগের উদ্ভাসন প্রতিভাত হয়।
কার্যত, রাগ-রাগিণীর অতীত তিনি কিছু করতে চেয়েছেন। এটি তারই প্রকাশ। সময়ক্রমে তার গানের যে বিবর্তন সেখানে পরিণত বয়সে সহজাতরূপে একপ্রকার পরিপক্বতাও আসে রবীন্দ্রনাথে। উদাহরণ :
এই তো ভালো লেগেছিল আলোর নাচন পাতায় পাতায়।
শালের বনে খ্যাপা হাওয়া, এই তো আমার মনকে মাতায়।
রাঙা মাটির রাস্তা বেয়ে হাটের পথিক চলে ধেয়ে,
ছোটো মেয়ে ধুলায় বসে খেলার ডালি একলা সাজায়
সামনে চেয়ে এই যা দেখি চোখে আমার বীণা বাজায়
 
আমার এ বাঁশের বাঁশী, মাঠের সুরে আমার সাধন।
আমার মনকে বেঁধেছে রে এই ধরণীর মাটির বাঁধন।
নীল আকাশের আলোর ধারা পান করেছে নতুন যারা
সেই ছেলেদের চোখের চাওয়া নিয়েছি মোর দু চোখ পুরে
আমার বীণায় সুর বেঁধেছি ওদের কটি গলার সুরে/
এতে স্থায়ী-অন্তরা-সঞ্চারী-আভোগ নেই। একেবারেই ক্যাজুয়াল ভাবনার বহিঃপ্রকাশ। গল্পের মতো, আছে নাটকীয়তাও। বর্ণনায় গীতধর্মীতা আকর্ষণীয়। বেগের চপলতাও দর্শনযোগ্য। জীবনের আশ্চর্য আনন্দকেই যেন তিনি ধরতে চেয়েছেন এর ভেতর দিয়ে। পরিণত বয়সে প্রায় সত্তরের দিকে লেখা এ গানটি :
                  এসেছিলে তবু আস নাই জানায়ে গেলে
                  সমুখের পথ দিয়ে             পলাতকা ছায়া ফেলে
            তোমার সে উদাসীনতা    সত্য কিনা জানি না সে,
                  চঞ্চল চরণ গেল ঘাসে ঘাসে            বেদনা মেলে
                  তখন পাতায় পাতায়          বিন্দু বিন্দু ঝরে জল,
                  শ্যামল বনান্তভূমি             করে ছলোছল্।
            তুমি চলে গেছ ধীরে ধীরে             সিক্ত সমীরে,
                  পিছনে নীপবীথিকায়     রৌদ্রছায়া যায় খেলে।
সুরের অনুরণন, চিন্তার গভীরতা, তীক্ষ্ণধী বুনোটে উচ্চস্তরের শিল্পঋদ্ধি অর্জন করেছে গানটি। ‘তখন পাতায় পাতায় বিন্দু বিন্দু জল’ অমোঘ, অসম্ভবপ্রায় সুরারোপিত। এই পরিণত বয়সের গানগুলো অবশ্যই আলাদা মূল্যায়নের অবকাশ রয়েছে। একসঙ্গে বেশ কিছু গান যখন তিনি লেখেন তখন পরিপক্বতারও একটি পরিণতি যেন তার রচনায় স্পষ্ট হয়।
৩.
সঙ্গীতে অবশ্যই সঙ্গতের প্রশ্ন আছে। একালে তা বোধ হয় মনোস্ট্রসিটিতে পরিণত হয়েছে। কারণ, সঙ্গীতে শব্দের যে counterpart তাতে শ্রোতা বা গায়কের ‘মিলিবে মিলাবে’তুল্য করে তুলতে হবে। কিন্তু বিষয়টির আজকাল বড্ড অভাব। রবীন্দ্রনাথের কথায় বলতে হয়, ‘অভাবেরই অভাব’ ঘটেছে এখন।
‘গীতবিতান’ আছে, ‘স্বরবিতান’ আছে কিন্তু সুরসঙ্গমের সাধনা অনেকক্ষেত্রেই হয় না। তাই ব্যক্তিনাম যা ‘লাউয়ের বোঁটা’তুল্য, রবীন্দ্রসঙ্গীতেও গায়ক ও শ্রোতা ওই বোঁটা অব্দি পৌঁছায়। তাতেই বোধ করি এখন শ্রোতা ও গায়কের সন্তুষ্টি। তবে এ সন্তুষ্টিতে ক্ষতি নেই, চলে যায়। কিন্তু বাক্যান্তর্গত নিথর নীরবতাটা  (‘সেদিন দুজনে’, ‘যেতে যেতে পথে’) না রইলে রবীন্দ্রনাথের গান কিন্তু অনেকটাই তাৎপর্য হারায়।
রবীন্দ্রসঙ্গীত ক্লাসিকরীতি থেকে বাউল পর্যন্ত গানকে একটি শক্ত ও সহজ বাঁধনে গড়েছে। সেটির গায়কী পরিচয় থাকা অবশ্যই প্রয়োজন। এজন্য সঙ্গীতের শর্তসমূহ, অন্ধি-সন্ধির রূপরেখাটা ন্যূনতম হলেও জানা জরুরি।
আসলে অনেকেই আমরা entertainment তথা pleasing noise এ গুপ্ত হয়ে থাকি। এমন ‘মাধুর্য’ দিয়ে তো রবীন্দ্রনাথের গান শোনা যায় না। বোধ করি, এখনকার তড়িৎবিশ্বে সঙ্গীতের এই প্লিজেন্সি একপ্রকার বিকৃতি, অবনমনও বটে। যুগে যুগে বোধ পাল্টায়, বৃত্তি পাল্টায়, শ্রোতার রুচিও পাল্টাবে, কিন্তু প্রকৃত সাঙ্গীতিক বাঁধনটির অপচয় তো রোধ করাটা জরুরি।
তাই বলি, ‘সমাজ অগ্রসর হয়েছে বলে, কাল অগ্রসর হয়েছে বলে, রবীন্দ্রসঙ্গীতের বিপত্তি নয় অগ্রসর হচ্ছে না বলেই বিপত্তি।’
৪.
রবীন্দ্রনাথের অনেক স্বদেশসূচক গান আমাদের প্রেরণার উৎস। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তা অনুপ্রেরণা দিয়েছে। গানই যেন অস্ত্র। শূন্যতা, একাকীত্ব, সংশয়, অতৃপ্তি, বিপন্নতায় রবীন্দ্রনাথ অনিবার্য। ‘সে কি সত্য সকলি সত্য’ কিংবা ‘বিশ্ববীণা রবে’, ‘তুমি রবে নীরবে’ প্রভৃতি গান প্রতিনিয়ত মানুষের প্রেরণার উৎস।
রবীন্দ্রায়নের স্বরূপটি প্রতিদিনই আমাদের নতুন করে ধরা দেয়। তাঁর গান সর্বপ্রকারে ব্যবহৃত হয়। তাঁর পরে অনেক ঋদ্ধ গীতিকার গান লিখলেও সে অর্থে তাঁকে অতিক্রমী এখনও কেউ নেই ফলে এ এক ‘সর্বনাশ’; আর ‘সর্বস্ব’ এই অর্থে যে, ‘দুখের রাতে নিখিল ধরার বঞ্চনার দিনে রবীন্দ্রসঙ্গীতই একটা আশা বিশ্বাস বল, পরিশীলন ও মানবতার অনিরুদ্ধ উৎস’ যা বাঙালির জীবনে রয়ে যাবে।
তাই আমরা সর্বস্বতায় অন্তর্লীন হই এবং তাঁকে চিরপ্রণম্য জ্ঞান করি।

সর্বশেষ সংবাদ