বাংলা ফন্ট

কাঠ কয়লা-খনিজ কয়লার পার্থক্য ও সুন্দরবনের অস্তিত্ব

25-01-2017
নুরুল হুদা নিপু

কাঠ কয়লা-খনিজ কয়লার পার্থক্য ও সুন্দরবনের অস্তিত্ব ঢাকা: কয়লা মূলত দুই প্রকার- একটা কাঠ কয়লা বা অঙ্গার অন্যটা খনিজ কয়লা। কাঠ কয়লা ও খনিজ কয়লার রাসায়নিক গঠন-প্রকৃতি, পার্থক্য এবং ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে নিচে পড়ুন।

কাঠ কয়লা মূলত বিশুদ্ধ কার্বন যা আগুন দিয়ে কাঠ থেকে পানি, মিথেন, হাইড্রোজেন, টার ইত্যাদি উপাদান দূরীভূত করে কৃত্রিমভাবে প্রস্তুত করা হয়।

আর খনিজ কয়লা সম্পর্কে ভূতত্ত্ববিদরা মনে করেন, আজ থেকে ২৫০-৩০০ মিলিয়ন বছর আগে বিপুল পরিমাণ উদ্ভিদ অক্সিজেন শূন্য পরিবেশে চাপা পড়ে কয়লায় পরিণত হয়েছে। খনিজ কয়লারও প্রধান উপাদান কার্বন। তবে এর সঙ্গে থাকে হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, সালফার, নাইট্রোজেন, অ্যালুমিনিয়াম, সিলিকন অক্সাইড, টার ইত্যাদি জৈব ও অজৈব প্রদার্থ। যা পরিবেশ ও মানব দেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

রামপালের বিরোধিতাকারীদের উদ্দেশে ‘কয়লা পানি বিশুদ্ধ করে’ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যে ধরে নেওয়া যায়, আমাদের শৈশবের মতো কয়লা সম্পর্কে তারও হয়ত স্পষ্ট ধারণা নাই। পানি ফিল্টারের জন্য ব্যবহার করা হয় কাঠ কয়লা আর বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ব্যবহার করা হয় খনিজ কয়লা এ বিষয়টি সম্ভবত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পুরোপুরি অবগত নন।
এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়; এমনটা হতেই পারে। একজন প্রধানমন্ত্রীকে সব কিছু জানতে হবে এমন তো কোনো কথা নেই। পৃথিবীর যেসব দেশ পারমাণবিক শক্তির অধিকারী সেসব দেশের প্রধানমন্ত্রীরা যে পারমাণবিক শক্তি সম্পর্কে আদ্যোপান্ত সব কিছু জানেন এমনটা কেউ দাবি করতে পারবে না। তবে তাদের যতটুকু জানা দরকার এ বিষয়ে ততটুকু জানানোর জন্য সরকারি বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করা থাকে।

আমাদের প্রধানমন্ত্রীকেও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ সম্পর্কে জানানো এবং পরামর্শ দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে লোক নিয়োগ করা আছে। তাদের দায়িত্ব এ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে সব কিছু জানানো। কিন্তু তারা সব কিছু সঠিকভাবে তাকে জানাননি বলেই মনে হচ্ছে। আর অদূর ভবিষ্যতে এটাই আমাদের জাতি তথা গোটা পৃথিবীর প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য বিশাল এক ক্ষতি ডেকে নিয়ে আসতে যাচ্ছে।

সুন্দরবনের অদূরে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের ফলে নির্গত বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থে পানি-বাতাস দূষিত হওয়ার মাধ্যমে এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠতে যাওয়া শিল্পাঞ্চলের নানাবিধ ক্ষতিকর প্রভাবে একসময় সুন্দরবন অবশ্যই হারিয়ে যাবে। তখনকার প্রজন্ম আফসোস করে বলবে, “ইস! আমাদের তখনকার প্রধানমন্ত্রীকে যদি কাঠ কয়লা আর খনিজ কয়লার পার্থক্যটা তার আশেপাশের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষজ্ঞ লোকেরা সঠিকভাবে জানাত তাহলে আজ আমাদের সুন্দরবনকে হারিয়ে ফেলতে হতো না। কারণ, তিনি তো ছিলেন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা। তার হাতে দেশের জন্য ক্ষতিকর এমন একটি কর্মকাণ্ড কখনোই হতে পারত না।

যেদিন সুন্দরবন থাকবে, সেদিন প্রধানমন্ত্রী কিংবা আওয়ামী লীগও থাকবে না। কিন্তু মানুষ থাকবে। আর সেই মানুষ আজকের সরকার ও প্রধানমন্ত্রীকে কি কাঠগড়ায় দাঁড় করাবেন?

ঢাকারিপোর্টটোয়েন্টিফোর.কম/এইচএমএল

সর্বশেষ সংবাদ