বাংলা ফন্ট

সাগরে ১১ নম্বর ব্লক পেল সান্টোস-ক্রিসএনার্জি

14-03-2014

সাগরে ১১ নম্বর ব্লক পেল সান্টোস-ক্রিসএনার্জি অগভীর সমুদ্রের ১১ নম্বর ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের কাজ পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া ও সিঙ্গাপুরের যৌথ  কোম্পানি স্যান্টোস ও ক্রিসএনার্জি। বিদেশি এ প্রতিষ্ঠান দুটির সঙ্গে যৌথভাবে থাকছে বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাপেক্স।
 
বুধবার রাজধানীর পেট্রোসেন্টারে পেট্রোবাংলা ও বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে স্যান্টোস সাঙ্গু ফিল্ড লিমিটেড ও ক্রিস এনার্জি লিমিটেডের চুক্তি সই হয়েছে।
 
চুক্তি অনুযায়ী এই ব্লকের জন্য স্যান্টোস ও ক্রিসএনার্জিকে আট বছর মেয়াদের জন্য ‘গ্যারান্টি মানি’ হিসেবে ১৫ মিলিয়ন ডলার দিতে হবে বাংলাদেশকে।  উত্তোলিত তেল-গাসের দাম নির্ধারিত হয়েছে ‘হাই সালফার ফুয়েল অয়েল’ ভিত্তিতে প্রতি টন ১০০ ডলার থেকে ২০০ ডলারের মধ্যে।
 
তেল-গ্যাস পাওয়া গেলে অনুসন্ধান খরচ হিসেবে ৫৫ শতাংশ পাবে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ১০ শতাংশ অংশীদার হিসেবে পাবে বাপেক্স। বাকি অংশের তেল ও কনডেনসেটের মধ্যে ৫৫ থেকে ৮০ শতাংশ পাবে পেট্রোবাংলা। বাকিটা পাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
 
চুক্তি অনুযায়ী, অনুসন্ধানকারী প্রতিষ্ঠান উত্তোলিত তেল-গ্যাস প্রথমে পেট্রোবাংলার কাছে বিক্রির জন্য প্রস্তাব দেবে। পেট্রোবাংলা প্রত্যাখ্যান করলে দেশের মধ্যেই তৃতীয় পক্ষের কাছে তা বিক্রি করতে হবে।
 
অগভীর সমুদ্রের ব্লক ১১-এর আয়তন চার হাজার ৪৭৫ বর্গকিলোমিটার। স্যান্টোস ও ক্রিসএনার্জিকে ওই ব্লকে অন্তত একটি কূপে ৮৮৭ কিলোমিটার লাইন দ্বিমাত্রিক সিসমিক সার্ভে করতে হবে। শর্ত অনুযায়ী, তেল-গ্যাস অনুসন্ধানকাজে অন্তত ৫০ শতাংশ এবং উত্তোলনকাজে অন্তত ৯০ শতাংশ বাংলাদেশি কর্মী যুক্ত করতে হবে।
 
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই ইলাহী চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুসহ মন্ত্রণালয় ও পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা চুক্তি সাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
 
মডেল পিএসপি ২০১২ এর আওতায় গত বছর অগভীর সমুদ্রের নয়টি ব্লকে তেল গ্যাস উত্তোলন ও অনুসন্ধানের জন্য দরপত্র ডাকা হলে চারটি ব্লকের জন্য তিনটি কোম্পানি দরপ্রস্তাব দেয়। তবে কোনো ব্লকের জন্যই  প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না।
 
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি অগভীর সমুদ্রের ৪ ও ৯ নম্বর ব্লকের কাজ দেয়া হয় ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি ওএনজিসিকে। ওই দিন ওএনজিসি ও অয়েল ইনডিয়ার সঙ্গে এ বিষয়ে চুক্তি করে সরকার।
 
বর্তমানে ২৫টি গ্যাসক্ষেত্র থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় দুই কোটি ৩০ লাখ ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে। তার পরও প্রায় ৫০ লাখ ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। পেট্রোবাংলার হিসাবে, এখন পর্যন্ত ১১ দশমিক ৭২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হয়েছে। এখনো প্রমাণিত মজুদ রয়েছে ১৫ দশমিক ৩২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট